দীর্ঘ ১০০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি চুক্তির খসড়া প্রকাশিত হয়েছে।
এই চুক্তি অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য সম্মত হয়েছে, যা একটি কৌশলগত জলপথ। এর বিনিময়ে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেবে।
চুক্তির আর্থিক দিকগুলোও ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না এবং ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হবে।
এছাড়া, ইরানের আটকে থাকা ২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা নগদ অর্থ স্থানান্তর এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর ক্রেডিট লাইনের মাধ্যমে ফেরত পাবে।
চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করবে না এবং নতুন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ থাকবে। তবে ইরান তার উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে নিতে পারবে না, বরং তা দেশেই পাতলা করা হবে।
এই চুক্তির প্রভাব শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং লেবাননের যুদ্ধ থামানোর বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আশা করছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই শান্তি চুক্তির ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর সম্পন্ন হবে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, ট্রাম্পের মেজাজ এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি কি টিকবে এবং এটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি আনবে কিনা।