ইরানে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে, যেখানে বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৭৭ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলের বস্তান মার্কেটে ক্রেতাদের সংখ্যা কমে গেছে। অনেক ক্রেতা বাজারে আসলেও প্রয়োজনীয় পণ্য না কিনে শুধু দাম যাচাই করে ফিরছেন।
৬৩ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত ইরানি মাশহাদি ফিরোজ জানান, এক বছর আগে এক কেজি চালের দাম ছিল ১৮ লাখ রিয়াল, এখন তা বেড়ে ৫০ লাখ রিয়ালেরও বেশি হয়েছে। রান্নার তেলের দামও কয়েক গুণ বেড়েছে। তিনি বলেন, স্থায়ী আয়ের মানুষরা এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে জীবনযাপন করছেন।
৪৬ বছর বয়সী গৃহিণী ফাতেমা জানান, দাম দ্রুত বাড়ার কারণে সপ্তাহে কয়েকবার বাজার করতে হচ্ছে। মাংস এখন স্বপ্নের মতো এবং মুরগি বিলাসী খাবারে পরিণত হয়েছে।
তেহরানের দক্ষিণাঞ্চলের পাইকারি বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় মানুষ এখন শুধুমাত্র নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনছেন। গত কয়েক মাসে দাম দ্বিগুণ হলেও বিক্রি কমে গেছে।
ইরানের চেম্বার অব কমার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, মুদ্রা নীতির পরিবর্তন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা—এই সব মিলিয়ে দেশটির অর্থনীতি 'চরম চাপের' মধ্যে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে এবং দারিদ্র্য আরও গভীর হচ্ছে।