ভারতের নয়াদিল্লির মালব্য নগরে একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশ দূতাবাস গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বুধবার সকালে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় অন্তত ২১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে শোক জানায় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করে। পোস্টে বলা হয়, "দিল্লিতে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছি।"
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিহত ২১ জনের মধ্যে ১৮ জন বিদেশি নাগরিক। নিহত বিদেশিদের মধ্যে প্রধানত বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, মোজাম্বিক ও লাইবেরিয়ার নাগরিক রয়েছেন।
বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, অগ্নিকাণ্ডে ৫ বাংলাদেশি আহত হয়েছেন, তবে তাঁদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর নেই। আহতদের মধ্যে তিনজন সাকেতের ম্যাক্স হাসপাতালে এবং দুইজন সফদারজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বুধবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে হোটেলে আগুন লাগে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং হোটেলের ২৫টি ঘর থেকে ৪০ জন অতিথি আটকে পড়েন। কিছু লোক প্রাণ বাঁচাতে হোটেলের বিভিন্ন তলা থেকে নিচে ঝাঁপ দেন, কিন্তু ২০ জন ঘরে আটকা পড়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান।
দমকলের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরে আরও ইউনিট যোগ দেয়। পুলিশ জানায়, বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হোটেলটি সরু গলির মধ্যে অবস্থিত এবং আগুন লাগার সময় অতিথিরা ঘুমাচ্ছিলেন।
হোটেলের রাঁধুনি কেসর সিংহ জানান, তিনি রান্নাঘরে বৈদ্যুতিক স্টোভ জ্বালাতে গিয়ে আগুনের সূত্রপাত ঘটান বলে দাবি করেছেন।