সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬
ব্রেকিং
রাজনীতি

জামায়াতের আপত্তি, ১৩৩ অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত বিশেষ কমিটির

জামায়াতে ইসলামী বিরোধিতা করছে ১৩৩ অধ্যাদেশের সংসদে উত্থাপনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে।

জামায়াতের আপত্তি, ১৩৩ অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত বিশেষ কমিটির

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের অধিকাংশ যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২ এপ্রিল সংসদে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশেষ কমিটি। তবে গণভোটের অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়ে গেছে উল্লেখ করে তা বিল আকারে সংসদে উত্থাপন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে আপত্তি তুলেছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।

যেসব অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হচ্ছে, এর মধ্যে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয়সহ কয়েকটি অধ্যাদেশের সংশোধনীসহ উত্থাপনের সুপারিশ করেছে সরকারি দল। বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা এসবের বিরোধিতা করেছেন। তাদের পক্ষ থেকে ১৫ অধ্যাদেশের বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৯ মার্চ) রাতে জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকটি প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলে। তৃতীয় দিনের বৈঠকের শেষে ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে কমিটি। ২ এপ্রিল কমিটি সংসদে প্রতিবেদন পেশ করবে।

সংবিধানে গণভোটের বিধান নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামী সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘গণভোটের সাথে গোটা জাতি জড়িত। এটি বাতিলের কথা বলা হয়েছে, যা আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। যদি গণভোট সংবিধানবহির্ভূত হয়, তবে একই দিনে হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়?’

গণভোটের অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণভোট অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়ে গেছে। এর অধীনে সামনে আর কোনো গণভোট হবে না। এটি বিল আকারে আনার প্রয়োজন নেই।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন। এতে অংশ নেন কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, এবং অন্যান্য সদস্যরা।

রফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, কিছু মৌলিক বিষয়ে তারা একমত হতে পারেননি। সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে পাস করার চেষ্টা করছে। ১৪-১৫টি বিষয়ে বিরোধী দল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। বিশেষ করে মানবাধিকার কমিশন ও পুলিশ কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের লাইনে নিয়ে যেতে চাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১০-১৫টি বিষয়ে আমরা কিছু সংশোধনীসহ একমত হয়েছি। বাকি যেগুলো জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা আছে, সেগুলোতে আমরা ছাড় দেব না। সংসদে এসব নিয়ে ভোটাভুটি বা বিস্তারিত আলোচনা হবে।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘১৩৩টি অধ্যাদেশের প্রতিটির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অনেকগুলো যেভাবে আছে, সেভাবে পাস করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিছু কিছু সংশোধিত আকারে বিল আনা হবে।’

বিজ্ঞাপন