লিবিয়া থেকে ইউরোপের দেশ গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে অন্তত ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি বলে জানা গেছে।
একই নৌকা থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ২৬ জনকে, যার মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি। নিহতদের পরিবার জানায়, এসব অভিবাসী মৃত্যু নৌকা ডুবিতে নয় বরং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এবং প্রায় এক সপ্তাহ সাগরে ভাসমান থেকে অনাহারে ও পিপাসার কারণে হয়েছে।
নিহত আমিনুর রহমানের ভাই মিজানুর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ভাইয়ের সাথে অন্য নৌকায় যারা গেইম দিয়েছিলো, তাদের মধ্যে একজন জানিয়েছে তাদের নৌকা গ্রিস পৌঁছেছে। কিন্তু আমার ভাই যে নৌকায় ছিলো সেটি মাঝ সাগরে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়।”
তিনি আরো বলেন, “আমরা জানতে পারি, আমার ভাই যে নৌকায় ছিলো সেটি ছয় দিন সাগরে ভাসমান ছিলো। তাদের মধ্যে বেশিরভাগ অনাহারে, পানি পিপাসায় মৃত্যু হয়েছে।”
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দশ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শনিবার সন্ধ্যায় এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে প্রাণে বেঁচে যাওয়া এক যুবক জানান, “আমাদেরকে বড় বোটের কথা বলে ছোট বোটে তুলে দেওয়া হয়।”
শুক্রবার ভোরে ক্রিট দ্বীপের কাছে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ এক নারী ও এক শিশুসহ ২৬ জনকে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের তথ্যে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে অনেকের মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
উদ্ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন ২১ জন বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদানের নাগরিক এবং একজন চাদের নাগরিক। তাদের মধ্যে দু’জনকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ক্রিটের হেরাক্লিয়ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।