ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই সংঘাতের ফলে জ্বালানি বাজার, শেয়ারবাজার এবং উৎপাদন খাতে বড় ধাক্কা লেগেছে। পাশাপাশি, মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান বিভিন্ন স্থানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনা ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে গেছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়।
হামলার ফলে তেলের দাম বেড়ে গেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলার থেকে বেড়ে ১০৬ ডলারে পৌঁছেছে। এলএনজি দামে প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। কাতার এনার্জি উৎপাদন স্থগিত করায় বাজারে চাপ আরও বাড়ছে।
এশিয়ার দেশগুলো, যেমন চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া, হরমুজ প্রণালী থেকে তেল ও গ্যাসের উপর বেশি নির্ভরশীল। সরবরাহ কমে যাওয়ায় এসব দেশ বিকল্প উৎস খুঁজছে, যা খরচ বাড়াচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তেলের দাম ১৩০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে ৮৫টিরও বেশি দেশে পেট্রোলের দাম বেড়েছে। কম্বোডিয়ায় ৬৮ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়েছে। বিভিন্ন দেশ উৎপাদন কমাতে পদক্ষেপ নিচ্ছে, যার ফলে সেবা ও উৎপাদন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
যুদ্ধ শুরুর পর বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে বড় পতন হয়েছে। বিশ্বজুড়ে শেয়ারের মূল্য গড়ে ৫.৫ শতাংশ কমেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এশিয়ার বাজার বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত হলে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে। অতীতে তেলের দাম বাড়লে মন্দা দেখা গেছে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ঋণ সংকটে ফেলতে পারে।
যুদ্ধের প্রভাব বিমান খাতেও পড়েছে। জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে ১৫০ থেকে ২০০ ডলারে পৌঁছেছে, ফলে বিমানের ভাড়া বেড়েছে। গালফ অঞ্চলের আকাশপথ আংশিক বন্ধ থাকায় ফ্লাইট ঘুরিয়ে চালানো হচ্ছে, যা সময় ও খরচ বাড়াচ্ছে।
সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে সংকট আরও গভীর হতে পারে।
Source: Jamuna Tv