সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ীতে ৬৫ চরমপন্থির আত্মসমর্পণ

সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ীতে ৬৫ চরমপন্থির আত্মসমর্পণ, সরকারের উদ্যোগে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয়।

সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ীতে ৬৫ চরমপন্থির আত্মসমর্পণ

সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলায় সর্বহারা চরমপন্থিদের অবাধ বিচরণ একসময় আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিল। চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই ও খুন ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। তবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমের ফলে এই জেলাগুলো বর্তমানে অনেকটাই চরমপন্থিমুক্ত হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সদর দফতরের আয়োজিত আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ৬৫ জন চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফরজানা শারমীন।

প্রতিমন্ত্রী ফরজানা শারমীন বলেন, 'যে সোশ্যাল কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে তাদেরকে অধিকার দেয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছি, সেই অধিকার যেন আমরা তাদেরকে পৌঁছে দিতে পারি।' তিনি আরও বলেন, 'বর্তমান সরকার একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশ গড়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে। আপনাদের প্রয়োজনীয়তা সরকার ব্যবস্থা করবে।'

সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ীসহ আশপাশের এলাকায় ১৪টি চরমপন্থি সংগঠন সক্রিয় ছিল, যার মধ্যে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি এমএল (লাল পতাকা), পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি (এমবিআরএম) ও পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি (জনযুদ্ধ) অন্যতম।

১৯৬৮ সাল থেকে এসব সংগঠন বিস্তৃত হতে শুরু করে এবং তরুণ সমাজকে ভুল বুঝিয়ে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করে। আশি-নব্বইয়ের দশকে তারা ব্যাপক বিস্তার লাভ করে এবং সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে প্রকাশ্যে সশস্ত্র মহড়া দিয়ে আলাদা রাজত্ব কায়েম করতে থাকে।

১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন চরমপন্থিদলের শীর্ষ নেতাসহ শতাধিক সদস্য। এরপর ২০১৯ সালে পাবনায় ৫৯৬ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। ২০২৩ সালের ২১ মে সিরাজগঞ্জে ৩২৩ জন চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সিরাজগঞ্জের ৬ জন, পাবনার ৫৪ জন ও রাজবাড়ীর ১৩ জন সর্বহারা চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করেন এসআরবির কাছে।

বিজ্ঞাপন