বাংলাদেশে ‘ভাগওয়া লাভ ট্র্যাপ’ নামে একটি ষড়যন্ত্রতত্ত্বের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। এই প্রচারণায় ভিন্ন ধর্মের তরুণদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগ তুলে মুসলিম নারীদের লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে।
এক তরুণী, যিনি ছদ্মনাম ফাতেমা ব্যবহার করেছেন, বলেন, “আমি চোরের মতো জীবনযাপন করি”। তার ব্যক্তিগত ছবি, ফোন নম্বর ও ঠিকানা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
অনুসন্ধানী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবের গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ২৩টি ফেসবুক পেজে ‘ভাগওয়া লাভ ট্র্যাপ’ সম্পর্কিত ২৮৮টি পোস্ট শনাক্ত করা হয়েছে। এসব পোস্টে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে অনেককে হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার হতে হচ্ছে।
ডক্সিং নামক এই কর্মকাণ্ডে অনুমতি ছাড়া কারো নাম, ছবি, ঠিকানা ও ফোন নম্বর প্রকাশ করা হয়। ডিসমিসল্যাবের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ জন ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, যাদের সবাই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পোস্টগুলো প্রকাশের পর তারা হুমকি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।
‘ভাগওয়া লাভ ট্র্যাপ’ শব্দবন্ধটির উৎপত্তি ভারতে। ২০২৩ সালে অল্ট নিউজের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মুসলিম পুরুষেরা হিন্দু নারীদের ধর্মান্তরিত করার অভিযোগের পাল্টা হিসেবে এই প্রচারণা শুরু হয়। বাংলাদেশে এই ধারণাটি ছড়িয়ে পড়ার পর ভিন্ন ধর্মের সম্পর্কের বিরুদ্ধে সামাজিক অপবাদ সৃষ্টি হয়েছে।
ডিসমিসল্যাব ফেসবুকে ‘ভাগওয়া লাভ’ শব্দ দিয়ে অনুসন্ধান করে ৫৪টি পেজ শনাক্ত করেছে। ৩ হাজার ৮২৮টি পোস্টের মধ্যে ১৯৪টি পোস্টে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে একজন জানান, তার ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের কারণে কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ডিসমিসল্যাবের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১৭টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল লিংক খুঁজে পাওয়া যায়নি।