অপরাধ তদন্তে ডিভাইস বিশ্লেষণের চাহিদা গত ১৫ বছরে প্রায় ৪০০ গুণ বেড়েছে। ২০১২ সালে ৭টি মামলায় ১৮টি আলামত বিশ্লেষণ করা হলেও, ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার মামলায় ১১ হাজারের মতো আলামত জমা পড়েছে। বর্তমানে তিনটি বিভাগে ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হলেও, সিআইডি প্রতিটি বিভাগে নতুন ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা করছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন পাল্টে গেছে এবং ডিজিটাল দুনিয়ায় সাইবার অপরাধ বাড়ছে, যার ফলে হত্যা ও ধর্ষণসহ প্রায় সব ফৌজদারি মামলায় ডিজিটাল ফরেনসিকের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। পুলিশ ও তদন্ত সংস্থাগুলোর জব্দ করা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু ডিজিটাল ফরেনসিকের সক্ষমতা সেই তুলনায় বাড়েনি, ফলে আলামতের জট সৃষ্টি হচ্ছে।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে ৭টি মামলার আলামতের সবগুলো নিষ্পত্তি করা হলেও, ২০২৩ সালে ৩৫৬১ মামলার ৯১ শতাংশ, ২০২৪ সালে ২৭৫৯ মামলার ৮৭ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৩২৯০ মামলার ৭৫ শতাংশ নিষ্পত্তি হয়েছে। এবছর জুন পর্যন্ত ২৪০০ মামলার মাত্র ৫১ শতাংশ আলামত নিষ্পত্তি হয়েছে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ বলেন, “আমরা আমাদের সক্ষমতা বাড়িয়েছি। আগে ঢাকায় একটি ফরেনসিক ল্যাব ছিল, সম্প্রতি চট্টগ্রামে একটি নতুন ল্যাব উদ্বোধন হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ল্যাব বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।”
বিশ্লেষকরা বলেন, ফরেনসিক তদন্তের জন্য একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক জানান, “ফরেনসিক টেস্টের জন্য একটি ইনস্টিটিউট প্রয়োজন, যা দ্রুত রিপোর্ট প্রদান করবে যাতে মামলার কার্যক্রম দ্রুততার সাথে শেষ হয়।”