ইউক্রেনের রুশ-নিয়ন্ত্রিত ওলেশকি শহরে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরুর উদ্দেশ্যে আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করেছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) উভয় পক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধবিরতির ফলে খাদ্য ও ওষুধের সংকট মোকাবেলার জন্য মানবিক সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইউক্রেনের পার্লামেন্টের মানবাধিকারবিষয়ক কমিশনার দিমিত্রো লুবিনেৎস ফেসবুকে জানান, ‘ইউক্রেনীয় পক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে।’ রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও যুদ্ধবিরতির সময়সূচি নিশ্চিত করেছে।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও কিয়েভসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার কিয়েভের সাউদার্ন ব্রিজ ও মেট্রোর অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়, যার ফলে যান চলাচল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন কর্তৃপক্ষ।
ওলেশকি শহরটি খেরসন অঞ্চলের নিপ্রো নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রুশ সেনারা শহরটি দখল করে নেয়। বর্তমানে, খেরসন শহরটি ইউক্রেনীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তিচুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে আলোচনা চলছে। শুক্রবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, নভেম্বরের প্রথমার্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
যুদ্ধবিরতির উদ্যোগের মধ্যেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে নতুন হামলা ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা কিয়েভের পরিবহন অবকাঠামো ও অন্যান্য স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যা সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে ড্রোন হামলায় ৩০ জন আহত হয়েছেন। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।