যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের ওলেশকি শহরে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে মস্কো ও কিয়েভ। আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে শহরটিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
যুদ্ধবিরতির বিষয়ে উভয়পক্ষের সম্মতি শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঘোষণা করা হয়। হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওলেশকিতে সাময়িকভাবে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখতে রাজি হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন।
রুশ বাহিনীর প্রধান জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভ জানান, স্থানীয় সময় ২৭ অক্টোবর ভোর ৪টা থেকে গোলাবর্ষণ বন্ধ রাখবে রুশ সেনারা। একই সময় থেকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার কথা জানিয়েছে ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফও।
ইউক্রেনের মানবাধিকারবিষয়ক ন্যায়পাল দিমিত্রো লুবিনেতসও ২৭ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ কার্যক্রমের আওতায় শহরে প্রবেশের সড়কগুলো থেকে মাইন অপসারণ, খাদ্য সরবরাহ এবং বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া হবে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ওলেশকি শহরটি, যেখানে বর্তমানে প্রায় ১,৭০০ থেকে ২,০০০ মানুষ বসবাস করছেন। যুদ্ধের আগে শহরটির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২৪,০০০।
মেলানিয়া ট্রাম্প শহরটিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত এবং বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, শহরটিতে অবশিষ্ট বাসিন্দাদের অধিকাংশই বয়স্ক এবং তাদের জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ, খাবার ও বিশুদ্ধ পানি প্রয়োজন।
নতুন শান্তি আলোচনা আগামী নভেম্বরের প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা আবুধাবিতে বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, যেকোনো শান্তিচুক্তিতে ইউক্রেনের জন্য শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা থাকতে হবে এবং আগামী ১০ বছরের জন্য অর্থায়নের ব্যবস্থা প্রয়োজন।