ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে ভোটারদের ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে, যা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোটগ্রহণের প্রথম সাত ঘণ্টায় যোগ্য ভোটারদের ৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট দিয়েছেন, যা কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
এটি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর দেশটির প্রথম নির্বাচন। ভোট কেন্দ্রগুলোর বাইরে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে, যা ভোটারদের মধ্যে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র আগ্রহ ও উদ্বেগের প্রতিফলন। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোটের নীতিগুলো নিয়ে সমালোচনা রয়েছে, যা ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বিভাজন বাড়িয়েছে।
নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইসরায়েলের শত্রুদের মোকাবিলা করার মতো দৃঢ়তা ও সক্ষমতা একমাত্র তাঁরই রয়েছে। তিনি ১৯ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, কিন্তু বিরোধীদের কাছে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট, সাবেক সামরিক প্রধান, ডানপন্থি ও মধ্যপন্থি দলগুলোর সমর্থন নিয়ে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চান। জনমত জরিপে দুই নেতার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিকদের ভোটদানের হার বেড়ে গেলে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোটের আসন কমতে পারে। নেতানিয়াহু সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।’
আইজেনকট বলেন, ‘আজকের দিন শেষে আমরা পরিবর্তন দেখতে পাব।’ তিনি হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ব্যর্থতারও সমালোচনা করেছেন।
নেতানিয়াহুর জোটের কট্টর ডানপন্থি নেতা ইতামার বেন-গভির ভোট দিয়েছেন এবং নেতানিয়াহুর পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে আরব ভোটারদের উপস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।