বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্প, যা উত্তরের ৫ জেলার মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, অবশেষে নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চীন-ভারত কূটনীতির কারণে প্রকল্পটি আটকে ছিল। তবে, বর্তমান বিএনপি সরকারের উদ্যোগে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ১৪-১৫ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রকল্পটি এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন হবে না, বরং ৭-৮ বছর সময় লাগবে।
তিনি বলেন, "প্রতি বছর দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলে আমরা নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে পারবো।" এছাড়া, ভারতের পক্ষ থেকে এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে কোনো বিরোধিতা নেই বলেও তিনি জানান।
প্রস্তাবিত তিস্তা মহাপরিকল্পনায় ১১০ কিলোমিটার নদীর তীর রক্ষা, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ এবং ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফরহাদ হোসেন আজাদ আরও জানান, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে বর্ষাকালের পানি সংরক্ষণ করা এবং শুকনো মৌসুমে স্থানীয় জনগণের সুবিধার্থে ব্যবহৃত হওয়া।
এছাড়া, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ তিস্তা প্রকল্প উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের জন্য চুক্তি করতে চায়। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কারণে তিস্তা চুক্তির ক্ষেত্রে বড় বাধা ছিল, কিন্তু সেখানে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ নতুন আশাবাদী।