ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে একটি পরীক্ষামূলক টিকা, যা ত্বকের ক্যানসার মেলানোমায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ফেস-৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, এই টিকার প্রয়োগে রোগীদের মৃত্যু কিংবা রোগ ফিরে আসার ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমেছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, এই ফল ক্যানসার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। রোগীর নিজস্ব ক্যানসারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চিকিৎসা পদ্ধতিকে আরও উন্নত করতে সক্ষম হবে এই প্রযুক্তি। একই গবেষণায় দেখা গেছে, টিকার সঙ্গে সম্মিলিত চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের মধ্যে দুই বছরের মধ্যে মেলানোমা শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ৩৮ শতাংশ কমেছে।
ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এমএসডি ও মডার্না জানিয়েছে, একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিডনি, মূত্রথলি ও ফুসফুসের ক্যানসারসহ অন্যান্য টিউমারের চিকিৎসা নিয়েও পরীক্ষা চলছে।
এই টিকাটি ইন্টিসমেরান নামে পরিচিত, যা এমআরএনএ প্রযুক্তিতে তৈরি। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ক্যানসার টিউমার অপসারণের পর রোগীদের টিউমারের জেনেটিক সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট ‘নিওঅ্যান্টিজেন’ চিহ্নিত করা হয়। এই উপাত্ত ব্যবহার করে প্রতিটি রোগীর জন্য পৃথকভাবে টিকা তৈরি করা হয়, যা শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে ক্যানসার কোষ চিনতে সাহায্য করে।
ফেস-৩ ট্রায়ালে ১,১৩৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক রোগী অংশগ্রহণ করেন, যাদের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মেলানোমা টিউমার অপসারণ করা হয়েছিল। টিকার সংমিশ্রণ ব্যবহারে তাদের মধ্যে ক্যানসার পুনরায় ফিরে আসা বা মৃত্যুর ঝুঁকি ৪২% কমেছে। এছাড়া, দুই বছর পর টিকা গ্রহণকারী রোগীদের মধ্যে ৮২.২% ক্যানসারমুক্ত ছিলেন, যেখানে কেবল ইমিউনোথেরাপি প্রাপ্তদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৭০%।
ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চের অধ্যাপক অ্যালান মেলচার ট্রায়ালের ফলকে 'অত্যন্ত প্রভাবশালী' বলে অভিহিত করেছেন। এমএসডি ও মডার্না ইতিমধ্যে মেডিক্যাল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা আগামী বছরের মধ্যেই অনুমোদিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।