জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আটকে আছে প্রায় দেড় লাখ আবেদন। দীর্ঘ সময় ধরে এসব আবেদন সুরাহা পাচ্ছে না ভুক্তভোগীরা।
ইসি জানিয়েছে, আটকে থাকা আবেদনগুলোর বেশিরভাগের নথি পর্যাপ্ত নয়। ইসি সচিব জানান, ব্যক্তিগত তথ্যে বড় অসঙ্গতি থাকলে সেগুলো মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। নাগরিকদের তথ্য ফ্যামিলি ট্রি পদ্ধতিতে থাকলে অসঙ্গতি দূর করা সম্ভব হবে।
গাজীপুরের মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বলেন, তার মায়ের এনআইডি সংশোধনের জন্য তিনি ৬ মাস ধরে ঘুরছেন। মায়ের নাম সুফিয়া বেগমের পরিবর্তে এনআইডিতে ভুলে নাসরীন উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, তার নানার নামেও ভুল রয়েছে। তিনি বলেন, "তারা বলছেন মেসেজ যাবে, কিন্তু ছয় মাস হয়ে গেছে, কিছু আসেনি। এটা তো ভোগান্তি।"
ঢাকার মহাখালীর মেহরান আহমেদ জানান, তিনি এনআইডি থেকে বাবা-মায়ের ডাক নাম বাদ দিতে চান। তিনি বলেন, "৩ বার আবেদনের সময় পার হয়েছে, কিন্তু সমাধান পাচ্ছি না।"
বর্তমানে ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪৭ জনের আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে ঘ-ক্যাটাগরি, নাম ও বয়সের আমূল সংশোধনের আবেদনই বেশি, যা ৭৫ হাজার ৪২৬ জনের।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এনআইডিতে ভুলের ক্ষেত্রে ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে। সাবেক অতিরিক্ত সচিব আ ক ম সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান, "শিশুদের জন্মনিবন্ধনের সময় অভিভাবকের এনআইডি নম্বর যুক্ত হলে সমস্যা অনেকাংশে কমবে।"
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, নাগরিকদের ডাটা ফ্যামিলি ট্রি পদ্ধতিতে থাকলে অনেক অসঙ্গতি দূর হবে। তবে, এনআইডিতে তথ্যের পুরোপুরি পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য নয়।
২০২০ সাল থেকে এনআইডি সেবা দ্রুত দিতে অনলাইন কার্যক্রম শুরু হয়। ভোগান্তি কমাতে ক, খ ও গ ক্যাটাগরির সংশোধন মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তারাই নিষ্পত্তি করছেন। তবে, ব্যক্তির তথ্যের আমূল সংশোধন সবচেয়ে জটিল।
ইসি জানিয়েছে, সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তি নির্ভর নতুন পদ্ধতি চালুর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।