বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কমুক্ত ওষুধ রফতানির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে, এই সুবিধা পুরোপুরি পেতে প্রয়োজন হবে তিন বছরের প্রস্তুতি।
স্বাধীনতার পর দেশের ৮০ শতাংশ ওষুধের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা ছিল। কিন্তু বর্তমানে দেশেই ৯৮ শতাংশ ওষুধ উৎপাদিত হচ্ছে এবং ১৪০টি দেশে রফতানি করা হচ্ছে। গত ১৬ বছরে এই খাতে আয় ৫ গুণ বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রফতানির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি।
যুক্তরাষ্ট্রে জেনেরিক ওষুধ রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকলেও প্যাটেন্টযুক্ত ওষুধের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশসহ ২০টি দেশকে বিশেষায়িত ওষুধ ও কাঁচামাল রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে।
বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হালিমুজ্জামান বলেন, "কেউ যদি একটি পণ্য নিয়ে শুরু করে, অন্তত তিন থেকে চার বছর সময় লাগবে।" তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফের পরিবর্তনশীলতা রফতানির ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশেষায়িত ওষুধের কাঁচামাল রফতানির শুল্কমুক্ত সুবিধাও রয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশ এখনও ৯০ শতাংশ কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করে। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এপিআই পার্কের কাজ চলছে, কিন্তু গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহের সমস্যা রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, নন ট্যারিফ ব্যারিয়ার কমানোর বিষয়ে আলোচনা হবে। ওষুধ শিল্প সমিতির মতে, অন্তত ১০টি কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সফল হতে সক্ষম, এর মধ্যে ৫টি কোম্পানির বিশেষায়িত ওষুধ রফতানির লাইসেন্স রয়েছে।