জুলাই সনদ সই হওয়ার এক বছর পূর্ণ হলো, কিন্তু এর বাস্তবায়ন নিয়ে এখনও রয়েছে ধোঁয়াশা। সরকার বারবার ঘোষণা করেছে, তারা নোট অব ডিসেন্টসহ সনদটি বাস্তবায়ন করবে। তবে বিরোধী দলগুলোর দাবি, এ বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি বিশ্বাসযোগ্য নয়।
দু-পক্ষের মধ্যে মূল টানাপড়েন হচ্ছে সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার নিয়ে। বিশেষজ্ঞরা আলোচনার ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদকে আইনি কাঠামোয় আনার তাগিদ দিয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বৈষম্যহীন নতুন দেশ গড়ার প্রত্যাশা বেড়ে যায়।
জুলাই সনদ প্রণয়নের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন দলের মতামত নিয়ে আলোচনা হয়। ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ঐকমত্য কমিশন ও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদে সই করে। এর ভিত্তিতে গণভোট আয়োজন করা হয় এবং নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব।’ গত জুলাইয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করা হয়। এ পর্যন্ত তারা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ৭টি বৈঠক করেছে, কিন্তু বিরোধী জোট এতে অংশ নেয়নি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার অভিযোগ করেন, ‘বিএনপি গণভোটের রায়কে প্রত্যাখ্যান করেছে।’ তিনি বলেন, জনগণের রায়ের সঙ্গে বিএনপি প্রতারণা করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার তাগিদ দিয়েছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. আল মাসুদ হাসানউজ্জামান বলেন, ‘সরকারি ও বিরোধীদলের মধ্যে সংলাপ অতি গুরুত্বপূর্ণ।' তিনি মতপার্থক্য নিরসন করে সংস্কারের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা ছাড়া জুলাই সনদ নিয়ে টানাপড়েন সমাধানের কোনো বিকল্প নেই।