শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
ব্রেকিং
ধর্ম

শিশুদের অভিভাবকত্ব আইন: মায়েদের অধিকার ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা

শিশুদের অভিভাবকত্ব আইন নিয়ে আলোচনা, মায়েদের অধিকার ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

শিশুদের অভিভাবকত্ব আইন: মায়েদের অধিকার ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বাবাকে শিশুর ‘স্বাভাবিক অভিভাবক’ হিসেবে গণ্য করা হলেও বাস্তবে মায়েরা প্রায়ই নানান ভোগান্তির শিকার হন। বিশেষ করে স্কুলে ভর্তি, জরুরি চিকিৎসা বা বিদেশে ভ্রমণের মতো বিষয়গুলোতে সন্তানের পক্ষে সই করার অধিকার থেকে বঞ্চিত হন তাঁরা।

১৫ অক্টোবর রাজধানীর দৃকপাঠ ভবনে ‘শিশুদের অভিভাবকত্ব সম্প্রসারণ প্রস্তাব-সিজিইপি’ আয়োজিত দ্বিতীয় সংলাপে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বক্তারা জানান, বিদ্যমান আইনি কাঠামোর জটিলতা কাটাতে পরিপূরক নীতি বা আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

মারমা সমাজের সদস্য লোটাস মারমা বলেন, “মারমা সমাজের প্রথাগত আইন আলাদা এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মৌখিক। মেয়েসন্তান হলে মা পান, ছেলে হলে বাবা।” তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রীয় আইনে বাবাকে স্বাভাবিক অভিভাবক হিসেবে গণ্য করা হলেও স্থানীয় প্রথা ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন অভিভাবকত্বের বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, “নীতিনির্ধারকেরা শিশুর অভিভাবকত্বের গুরুত্ব বুঝতে পারেন না।”

সিজিইপি’র আহ্বায়ক দিলরুবা শরমিন বলেন, “অভিভাবকত্বের যেকোনো প্রশ্নে শিশুর সর্বোত্তম কল্যাণই রাষ্ট্র ও আইনের মূল বিবেচনা হওয়া উচিত।”

আলোচনায় শিশুদের অভিভাবকত্ব নিয়ে বিভিন্ন গোষ্ঠীর শিশুদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, যেমন: পথশিশু, অনাথ ও রোহিঙ্গা শিশু, প্রতিবন্ধী শিশু এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের শিশু। বক্তারা জানান, এসব শিশুদের ক্ষেত্রে প্রথাগত ও রাষ্ট্রীয় আইনের মধ্যে টানাপোড়েন রয়েছে।

সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম, বিশিষ্ট আলোকচিত্রী শহিদুল আলম এবং সাংবাদিক সামসুদ্দোজা সাজেন।

বিজ্ঞাপন