শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
ব্রেকিং
ধর্ম

সিডনিতে জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডির নিহতদের স্মরণে আবেগঘন অনুষ্ঠান

সিডনিতে জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডির নিহতদের স্মরণে আবেগঘন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সিডনিতে জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডির নিহতদের স্মরণে আবেগঘন অনুষ্ঠান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সিডনিতে স্মরণ ও প্রার্থনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কিংস ল্যাংলির জিম সাউথি কমিউনিটি সেন্টারে জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়া (জেএইচএএএ) এই আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে জগন্নাথ হলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, নিহতদের স্বজন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন। স্মরণসভাটি শোক, স্মৃতিচারণ এবং সম্প্রীতির আবেগঘন মিলনমেলায় পরিণত হয়। ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের একটি ভবনের ছাদ ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে গভীর শোকের প্রতীক হয়ে আছে।

জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক গৌতম দাস মিঠু অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, "এই মর্মান্তিক ঘটনার স্মরণ কেবল অতীতকে ফিরে দেখা নয়; বরং ন্যায়বিচার ও দায়িত্বশীলতার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করার উপলক্ষ।"

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি কামরুল মান্নান আকাশ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি বলেন, “আমি বলতে গেলে একজন প্রত্যক্ষদর্শী। নিজের চোখে দেখেছি সেই বীভৎস দৃশ্য।”

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রাক্তন শিক্ষার্থী মনোরঞ্জন পাল স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, তিনি এই ট্র্যাজেডিতে তাঁর ভাইকে হারিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে ব্যক্তিগত শোকের স্মৃতি উপস্থিতদের আবেগাপ্লুত করে তোলে।

জগন্নাথ হলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কুমার পিয়াল দাস বর্তমান শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উচিত বর্তমান শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।"

অনুষ্ঠানে সমবেত সংগীত, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, এক মিনিট নীরবতা পালন, ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠ, কবিতা আবৃত্তি এবং নিহতদের উদ্দেশে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিক সংহতি প্রতিফলিত হয় এই আয়োজনে।

সমাপনী বক্তব্যে জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি কাজল রায় উপস্থিতদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পরে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

বিজ্ঞাপন