জাপানের টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘মানবসম্পদ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ দূতাবাস এবং জাপান-বাংলাদেশ হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (জেবিএ) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সেমিনারে জেবিএ–এর প্রেসিডেন্টসহ অন্যান্য সদস্য এবং দূতাবাসের কর্মকর্তারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রদূত মো দাউদ আলী তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘ পাঁচ দশকের বন্ধুত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের অংশীদারিত্ব কেবল কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার একটি প্রতীক।
রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, জাপানের বয়স্ক জনসংখ্যার বিপরীতে বাংলাদেশের বিশাল, দক্ষ তরুণ জনগণ উভয় দেশের জন্য ফলপ্রসূ হতে পারে। দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর মোরারজী দেশাই বর্মন তাঁর প্রেজেন্টেশনে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব তুলে ধরেন। তিনি জানান, জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি ২০২৪ সালে ১.২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ২০২৫ সালে ১.২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হবে।
তিনি আরও জানান, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর, ঢাকা মেট্রোরেল এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মতো মেগা প্রকল্পগুলোতে জাপানি সহযোগিতা দুই দেশের বিনিয়োগের পরিবেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।
কাউন্সিলর (শ্রম) জয়নাল আবেদিন তার উপস্থাপনায় দুই দেশের জনশক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকার জাপান শ্রমবাজারের গুরুত্ব বিবেচনা করে ‘জাপান সেল’ গঠন করেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
সেমিনারের শেষ পর্বে অংশীদারদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতার জন্য একটি নেটওয়ার্কিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়।