ইউক্রেনে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোররাতে এই হামলা চালানো হয়, যা কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলেছিল। হামলার ফলে রাজধানী কিয়েভ ও দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ৩০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত ছয় লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টার প্রতি রাশিয়ার ‘প্রকাশ্য অবজ্ঞা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল কিয়েভ ও খারকিভ।
জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) বলেন, ‘হামলাটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ছিল এবং এর ব্যাপকতা প্রদর্শনমূলক।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে শক্তিশালী বলে মনে করে না।’
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, কিয়েভ ও এর আশপাশের চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং খারকিভের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার ছোড়া ৩৯টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে মাত্র চারটি ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে তাদের বাহিনী।
শীতের আগমনের আগে ইউক্রেনে হামলা বাড়িয়েছে রাশিয়া, যা বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে। ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সের্হি কোরেতস্কি জানান, হামলায় ইউক্রেনের পাঁচটি অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় রেলওয়ের স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এদিকে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার কারণে ডিজেলের দাম বেড়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ইউক্রেনের হামলা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে।