বাংলাদেশের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু চট্টগ্রাম বন্দর, যেখানে দেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ সম্পন্ন হয়। তবে, এই বন্দরের কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জাহাজ ও কনটেইনারের দীর্ঘ জট এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় পিছিয়ে থাকা।
সম্প্রতি, চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর অপারেটর 'ডিপি ওয়ার্ল্ড'-এর হাতে। এই ১৫ বছরের চুক্তির ফলে বাংলাদেশ কি ধরনের সুবিধা পেতে চলেছে, সেটি এখন আলোচনার বিষয়।
২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটি টার্মিনালটি এক কিলোমিটার দীর্ঘ এবং এটি একসাথে চারটি সমুদ্রগামী ও একটি ছোট কনটেইনার জাহাজকে ধারণ করতে সক্ষম। বর্তমানে, এনসিটি চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ৪৪ শতাংশ পরিচালনা করে। গত এক বছরে এখানে ১৩ লাখ ৮৫ হাজার কনটেইনার ওঠানামা হয়েছে।
চুক্তির আওতায়, বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ণ মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে, যেখানে ডিপি ওয়ার্ল্ড শুধুমাত্র পরিচালনার অধিকার পাবে। চুক্তির শুরুর দিকে বাংলাদেশ ৬০০ কোটি টাকা অগ্রিম ফি পাবে এবং প্রথম ১০ বছরে আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিতে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করবে।
বিশ্বমানের বন্দরের সূচকে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৩৬৪তম, যেখানে অন্যান্য বন্দরে কনটেইনার অবস্থানের সময় ২ দিনের কম হলেও, চট্টগ্রামে তা ৯ দিনের বেশি। এই ধীরগতির কারণে দেশের অর্থনীতিতে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের ইজারা নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিনের। ২০০৮ সালে প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হলেও, তা বাতিল হয়। ২০১৯ সালে সমঝোতা স্মারকের পর ২০২৩ সালে চুক্তির কাজ এগিয়ে যায়। তবে, বিদেশি অপারেটর নিয়োগের বিরুদ্ধে শ্রমিক সংগঠনগুলো প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত রেখে চুক্তির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করলে বিভ্রান্তি কমবে। বাংলাদেশের বন্দরে বিশ্বের বড় বড় অপারেটরদের আগমন নতুন যুগের সূচনা করছে। এখন দেখার বিষয়, ডিপি ওয়ার্ল্ড চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নে কিভাবে ভূমিকা রাখে।