বাংলাদেশের বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জ্বালানি আমদানির ব্যয়ও বাড়াচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, সৌরবিদ্যুৎ কেবল পরিবেশবান্ধব জ্বালানির বিকল্প নয়, বরং এটি জ্বালানি ব্যয় কমানোর নতুন পথও তৈরি করছে।
চীনের সোলার অর্থনীতি এই সম্ভাবনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। সৌরপ্যানেল, সেল, ওয়েফার এবং ব্যাটারি উৎপাদনের ক্ষেত্রে চীন এখন বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় আধিপত্য করছে। আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থা আইআরইএনএ জানায়, ২০২৪ সালে চীনে রেকর্ড ২৭৭ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা যুক্ত হয়েছে।
চীনে বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় ব্যয় ছিল ৩.৩ মার্কিন সেন্ট, যা বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে কম। চীনের উৎপাদন ব্যবস্থার দক্ষতা এবং বৃহৎ উৎপাদন ক্ষমতা সৌরবিদ্যুতের ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের জন্য নীতিগত উদ্যোগ রয়েছে। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ এবং শিল্পকারখানায় সৌরপ্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে এই খাতকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। চীনের সৌরপ্রযুক্তি বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির চাহিদার সঙ্গে অর্থনৈতিক সংযোগ তৈরি করছে।
বিশ্বের সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় চীনের অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএ ২০২২ সালে জানায়, সৌরপ্যানেল উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপে চীনের অংশ ৮০ শতাংশের বেশি। ২০১১ সাল থেকে সৌরশিল্পে চীনে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ হয়েছে।
বাংলাদেশের সৌরবিদ্যুৎ খাত সম্প্রসারণে চীনের উৎপাদন সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। তবে, চীনে উৎপাদন ব্যয় কম হলেই যে বাংলাদেশের বাজারেও দাম কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। পরিবহন, শুল্ক এবং রক্ষণাবেক্ষণের মতো বিষয়গুলোও প্রকল্পের মোট ব্যয় নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশে ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় সুযোগ রয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ দেশে বড় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য উপযুক্ত জমি পাওয়া কঠিন হতে পারে। তবে, শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক ভবনের ছাদ কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
তৈরি পোশাক, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন শিল্পে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। এসব কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব।