ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন গত ৯ বছরে মশক নিধনে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে।
মশা নিধনের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। ২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ, যেমন ড্রেনে গাপ্পি মাছ ছাড়া, জলাশয়ে হাঁস ও ব্যাঙাচি ছাড়ার মতো কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির তৎকালীন মেয়র সাইদ খোকন ২০১৭ সালে ৪শ কিলোমিটার ড্রেনে গাপ্পি মাছ ছাড়ার ঘোষণা দেন। পরবর্তী সময়ে, ২০২০ সালে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ৫০০ হাঁস এবং ৫ মণ তেলাপিয়া মাছের পোনা ছাড়েন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনও মশার ওষুধ ছিটাতে ড্রোন ব্যবহার শুরু করে। মেয়র আতিকুল ইসলাম বাসাবাড়ির ছাদে ড্রোন উড়ানোর মাধ্যমে এডিসের প্রজননস্থল খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন।
তবে, প্রতি বছর খরচ বাড়ার সাথে সাথে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ও প্রাণহানিও বেড়েছে। ২০১৮ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ৬৩৭ কোটি ৩৫ লাখ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৩৬১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা খরচ করেছে।
নগরবিদরা বলছেন, মশক নিধনে অর্থ ব্যয় করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মোহম্মদ খান বলেন, “আমরা শুধু ওষুধ কিনছি এবং কিছু চটকদার কাজ করছি, কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।”
অন্যদিকে, দুই সিটির প্রশাসকরা দাবি করেছেন, বর্তমানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আগের চেয়ে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “গত ১০ বছরে ডেঙ্গুর রোগীর সংখ্যা বর্তমানে সবচেয়ে কম।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ঢাকা দুই সিটিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ২১ হাজার এবং মারা গেছে ১১৫ জন।