ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা নানা পাটেকর বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গোয়ার দোনা পাওলায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৫ বছর বয়সে মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্র জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এই অভিনেতার জীবনের শুরুটা ছিল সংগ্রামের। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের আর্থিক সাহায্যের জন্য স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার আগেই কাজ শুরু করতে হয়েছিল তাকে। মুম্বাইয়ের চুনাভাট্টি এলাকায় সিনেমার পোস্টার আঁকানোর কাজ করে মাসে মাত্র ৩৫ রুপি আয় করতেন তিনি।
প্রতিদিন ৮ কিমি হেঁটে কর্মস্থলে পৌঁছাতেন নানা। তার পরিবার একসময় আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ছিল, কিন্তু বাবার ব্যবসায়িক প্রতারণার শিকার হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। এই কঠিন সময়ে তাকে উপার্জনের জন্য কাজ করতে হয়।
নানা পাটেকর অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল বাবার উৎসাহে। নাটকের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠার পর তিনি থিয়েটারে প্রবেশ করেন। ১৯৭৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গমন’ ছিল তার প্রথম চলচ্চিত্র।
১৯৮৬ সালে ‘অঙ্কুশ’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি দর্শকের নজরে আসেন। এরপর ‘সালাম বোম্বে’, ‘পারিন্দা’, ‘প্রহার’, ‘ক্রান্তিবীর’সহ বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয় করে তারকা খ্যাতি অর্জন করেন।
অভিনয় জীবনে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ২০১৩ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন নানা পাটেকর। তার অভিনয়ের বৈচিত্র্য তাকে চলচ্চিত্রের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।