গাইবান্ধার শিক্ষক লুৎফর রহমান, যিনি পাঁচ দশক ধরে শিশুদের মাত্র এক টাকার বিনিময়ে শিক্ষা প্রদান করে আসছেন, সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি লাভ করেছেন। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে তিনি সম্মাননা পদক, মেডেল, সনদ ও দুই লাখ টাকার অনুদান গ্রহণ করেন।
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে লুৎফর রহমানের অবদানের জন্য তাঁকে আজীবন অবসরকালীন ভাতা দেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়। ৭৪ বছর বয়সী এই শিক্ষক, যিনি ‘এক টাকার মাস্টার’ নামে পরিচিত, তাঁর গ্রামে ফিরে আসার পর গ্রামবাসীরা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
স্থানীয় এক নারী বলেন, ‘এক টাকাও কেউ দিছে, কেউ দেয়নি। তাও তিনি পড়াইছেন।’ অন্য একজন গ্রামবাসী জানান, ‘আমাদের দুই ভাইকে তিনি পড়িয়েছেন। আমাদের মতো অনেক ছেলেমেয়েকে উনি পড়িয়েছেন।’
লুৎফর রহমান ১৯৫১ সালে গাইবান্ধার ফুলছড়ির উড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৪ সালে এইচএসসি পাস করেন। নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারানোর পর তিনি বাগুড়িয়া গ্রামে আশ্রয় নেন এবং সেখানে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিক্ষা প্রচার করতে শুরু করেন।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ওয়াদা করেছেন যে, আমাকে অবসর ভাতা দেবেন। ভাতা দিলে ওইটাই আমার সম্বল।’ তাঁর বড় ছেলে লাভলু মিয়া বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উনি যে আব্বাকে সম্মানিত করেছেন এতে আমাদের পরিবারসহ সবাই খুব আনন্দিত।’
শিক্ষাবিদরা লুৎফর রহমানের অবদানের স্বীকৃতিকে শিক্ষক সমাজের মর্যাদা বৃদ্ধি হিসেবে দেখছেন। ফুলছড়ির চন্দিয়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোসাদ্দেকুল হক মামুন জানান, ‘এই মুল্যায়নটুকু লুৎফর রহমান সাহেব পেয়েছেন।’
এলাকাবাসী আশা করছেন, লুৎফর রহমানের ‘এক টাকার শিক্ষাশালা’ উদ্যোগ হাজারো সুবিধাবঞ্চিত শিশুর পথ আলোকিত করবে।