বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতে আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, এক মামা ও এক চাচা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
আবরার ফাহাদের বাবা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁর ছেলের হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য সহযোগিতা কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালত স্বাধীনভাবে কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।
এছাড়া, তিনি কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবিও জানান। প্রধানমন্ত্রী সেতুটি নির্মাণের বিষয়ে আশ্বাস দেন এবং আবরার ফাহাদের নামে সেতুটির নামকরণের প্রতিশ্রুতি দেন।
আবরারের বাবা মসজিদটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে সহযোগিতা কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী মসজিদটির নির্মাণকাজ অবিলম্বে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ প্রধানমন্ত্রীর কাছে বুয়েট ক্যাম্পাসে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান এবং আবরার ফাহাদের নামে একটি নতুন হল নির্মাণের দাবি জানান।
সাক্ষাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরও উপস্থিত ছিলেন। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর বুয়েটসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়।
আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর মামলার রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।