কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে স্ত্রী ঝর্ণা আক্তারকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে স্বামী ইসমাইল সাগর মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আদালত আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন।
অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক সুপ্রিয়া রহমান আসামির অনুপস্থিতিতে এই রায় দেন। ইসমাইল সাগর মিয়া (৩২) বাজিতপুর উপজেলার উত্তর সরারচর এলাকার মৃত আয়েত আলীর ছেলে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ঝর্ণা আক্তারের সঙ্গে ইসমাইল সাগর মিয়ার বিয়ে হয়েছিল প্রায় ১০ বছর আগে। তাঁদের সংসারে দুই মেয়ে সন্তান রয়েছে। স্বামী দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীকে অত্যাচার, নির্যাতন ও মারধর করে আসছিলেন।
২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল রাতে ঝর্ণা আক্তার দুই মেয়েকে নিয়ে গাজীপুরের ভাড়া বাসা থেকে মায়ের বাড়িতে চলে আসেন এবং সেখানে স্বামীর নির্যাতনের কথা জানান। পরদিন রাতে ইসমাইল সাগর মিয়া অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান।
এসময় তিনি ঝর্ণা আক্তারের শরীরে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করেন এবং মাটিতে পড়ে গেলে তাকে লাথি, কিল ও ঘুষি মেরে গুরুতর আহত করেন। পরে ঝর্ণা আক্তারকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মা মোছা. জাহেরা বেগম বাদী হয়ে ইসমাইল সাগর মিয়া ও অজ্ঞাতনামা দুজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
বিচারিক প্রক্রিয়ার পর আদালত আজ ইসমাইল সাগর মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।