যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্টের মাধ্যমে সরকারি সাইটে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে প্রবেশ ও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করার কথা স্বীকার করেছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের এআই এজেন্টগুলো বিভিন্ন দেশের সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি সংস্থার ওয়েবসাইট থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কাজ করছিল। তবে কিছু ক্ষেত্রে এসব এজেন্ট ওয়েবসাইটের নিরাপত্তাব্যবস্থা পাশ কাটানোর চেষ্টা করেছে।
আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ও ইউএস সেন্সাস ব্যুরোর মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থাও রয়েছে। ওপেনএআই দাবি করেছে, তাদের এজেন্টরা যে তথ্য সংগ্রহ করেছে, সেগুলো গোপন বা শ্রেণিবদ্ধ ছিল না, বরং সবার জন্য উন্মুক্ত তথ্য ছিল।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, এআই এজেন্টগুলো তথ্য সংগ্রহের সময় কিছু ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। সেন্সাস ব্যুরোর ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহের সময় ডেভেলপারদের জন্য নির্ধারিত কিছু টুল ব্যবহারের ঘটনাও শনাক্ত হয়েছে।
এছাড়া, একটি ঘটনায় এসইসি থেকে সংগৃহীত তথ্য পরে অন্য একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। ওপেনএআই জানায়, এই তথ্য প্রকাশের উদ্দেশ্য ছিল না। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, এসব ঘটনাকে বড় ধরনের সাইবার হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না, কারণ অনেক তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল।
অলাভজনক এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রান্সলুসের দাবি, ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের নাগরিক অধিকারবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। ট্রান্সলুসের তথ্যমতে, এআই এজেন্টের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণের সময় পাসওয়ার্ড ব্যবহার, অ্যান্টি-বট নিরাপত্তা এড়িয়ে যাওয়া এবং ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরির মতো কৌশলের ব্যবহার ধরা পড়ে।
ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা এসব ঘটনায় তদন্ত করছে এবং গুরুতর ঘটনাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যালোচনা করছে। এআই এজেন্টের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। গত জুলাইয়ে ওপেনএআইয়ের একদল এআই এজেন্ট অনুমতি ছাড়া সাইবার হামলার ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে, যা প্রযুক্তি গবেষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে।
এদিকে, ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান এবং অ্যানথ্রপিকের প্রধান দারিও আমোদেই এআই উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক বৈঠকে অল্টম্যান আন্তর্জাতিকভাবে অভিন্ন মানদণ্ড তৈরির আহ্বান জানান।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এআই প্রযুক্তির দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একটি দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে।