প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার একটি স্বাস্থ্যবান বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে স্বাস্থ্যসেবার সূচনা হবে পরিবার ও কমিউনিটি থেকে। তিনি বলেন, ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’ নীতিকে সামনে রেখে স্বাস্থ্যব্যবস্থার রূপান্তর ঘটানো হচ্ছে।
২৪ সেপ্টেম্বর, জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপ’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নারীদের ও শিশুদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের, যার ৮০ শতাংশ নারী হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই স্বাস্থ্যসেবায় পেশাদার মিডওয়াইফের ভূমিকা অপরিসীম।’ তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকার সারাদেশে ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
মিডওয়াইফরা গর্ভকালীন সেবা, নিরাপদ প্রসব এবং মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন, উল্লেখ করেন তিনি। বর্তমানে বাংলাদেশে ১১ হাজারেরও বেশি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মিডওয়াইফ রয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ২৫ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা একটি সমন্বিত ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থায় পরিণত হচ্ছে, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি হেলথ কার্ড থাকবে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার তথ্য সহজে প্রাপ্ত হবে এবং রোগীকে সঠিক সময়ে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
নারীর স্বাস্থ্যসেবা কেবল গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, প্রতিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ন্যাশনাল মালিকানা ও টেকসই অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগকে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘এই পদক্ষেপগুলো একসঙ্গে আমাদের একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।’