জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, "ইরানকে কখনো আত্মসমর্পণ করানো সম্ভব নয়।" তিনি উল্লেখ করেন, ইরান কখনও আগ্রাসী ছিল না এবং সবসময় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করেছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, "আমরা কখনও মাথা নত করব না, হাঁটু গেড়ে বসব না।" তিনি ইরানের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় আপস না করার প্রতিশ্রুতি দেন।
হরমুজ প্রণালির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এই জলপথে সামরিক তৎপরতা বা অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে না।" তিনি দাবি করেন, ইরান হরমুজ প্রণালির কাছে শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশী চায় এবং যারা অনিরাপত্তা চাপিয়ে দিতে চায়, তাদেরকে সুযোগ দেওয়া হবে না।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হতো। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং অবরোধ তুলে নিলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, "আমাদের লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি নয়, বরং শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা।" তিনি দাবি করেন, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি দেশের উন্নয়নের একটি অংশ।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে বলেন, "ইরানের জনগণ সন্ত্রাসবাদের শিকার।" পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সন্ত্রাসী হিসেবে তুলে ধরেছেন।
এ সময় তিনি প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি তুলে ধরেন এবং মিনাবের একটি স্কুলে হামলায় নিহত শিশুদের ছবিও প্রদর্শন করেন। ইরান দাবি করে, ওই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র জড়িত ছিল।