কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপকের ছেলে অপ্রতিম হত্যার ক্লু শনাক্ত করা এবং প্রকৃত হত্যাকারীকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত ননস্টপ কাজ করে যাবেন বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "কিছু তথ্যপ্রযুক্তিগত বিষয়সহ তদন্তের জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। ঘটনাটি সবাইকে কাঁদিয়েছে। ছোট্ট নিষ্পাপ একটি শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে।"
পুলিশ সুপার আরও জানান, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, ঘটনার মোটিভসহ সবকিছু খুব শিগগিরই তদন্ত করে জানানো হবে। এ ঘটনায় আটক একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, "আটক ব্যক্তির মোবাইল, প্রযুক্তিগত তথ্য, লোকেশন এবং অপ্রতিমের অবস্থান—সবকিছু মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। যাকে আটক করা হয়েছে, সে নির্দোষও হতে পারে, আবার জড়িতও হতে পারে।"
পুলিশ সুপার বলেন, "তদন্তের এ পর্যায়ে মূল হত্যাকারীরা যেন কোনো তথ্য পেয়ে আত্মগোপনে যেতে না পারে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই কাজ করা হচ্ছে।"
এদিকে, অপ্রতিমের মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, "আমার ছোট্ট ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি এটার জবাব চাই। আমি কোনো বিচার মানিনা। আমাকে উত্তর দিতে হবে।"
প্রসঙ্গত, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এর আগে, শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।