রাজধানীর সূত্রাপুরে পারিবারিক কলহের জের ধরে একটি কক্ষে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে একই পরিবারের পাঁচজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শ্যামবাজার চামাকটুলি এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
দগ্ধদের মধ্যে রয়েছেন সিদ্দিক বেপারী, তার ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী মো. ইমন, ভাতিজা রাজিব, ভাগনে আরিফুর রহমান ধলু এবং ভাগনি তানিয়া আক্তার। সকলেই শ্যামবাজার চামারটুলি এলাকার পৈতৃক ভিটায় বসবাস করেন। আহতদের মধ্যে রাজিব ন্যাশনাল হাসপাতালে মেকানিক হিসেবে কর্মরত, ধলু ইলেকট্রিক মিস্ত্রি এবং তানিয়া পুরান ঢাকার উইমেন্স কলেজের স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বাসার সামনে ময়লা পানি জমিয়ে রাখার বিষয়ে তানিয়ার সঙ্গে ইমনের বোন সুলতানার বাগ্বিতণ্ডা হয়। সুলতানা বিষয়টি সৌদি আরবে অবস্থানরত তার ভাই ইমনকে জানান। খবর পেয়ে ইমন দেশে ফিরে আসেন।
সোনিয়া আক্তার, দগ্ধ আরিফুর রহমান ধলুর স্ত্রী, জানান, শনিবার বিকেলে ইমন সবাইকে মারার উদ্দেশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমিও মরব, তোদেরকেও মারব’। এরপর তিনি নিজ কক্ষে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ বলেন, সন্ধ্যার দিকে সূত্রাপুর এলাকা থেকে পাঁচজন দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। দগ্ধদের মধ্যে ইমনের শরীরের ৯০ শতাংশ, তানিয়ার ৬০ শতাংশ, সিদ্দিকের ৩৫ শতাংশ, রাজিবের ১৫ শতাংশ এবং আরিফুরের ৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। ইমন, তানিয়া, সিদ্দিক ও রাজীবকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে, আরিফের চিকিৎসা জরুরি বিভাগের অবজারভেশনে চলছে।