শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
স্বাস্থ্য

ফিজিতে এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধিতে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

ফিজিতে এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

ফিজিতে এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধিতে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

ফিজিতে এইচআইভি সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার পরীক্ষা, চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক সেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

বর্তমানে ফিজিতে প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে প্রায় একজন এই রক্তবাহিত ভাইরাসে আক্রান্ত। পাঁচ বছর আগে এই হার ছিল প্রতি ১৬৭ জনে একজন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, নিরাপদ যৌন সম্পর্কের অভাব এবং সুই শেয়ার করার মতো বিপজ্জনক প্রবণতা এই মহামারীর পেছনে মূল কারণ।

বিশেষজ্ঞরা 'ব্লু টুথিং' বা 'হটস্পটিং' এর মতো অভ্যাসের প্রতি সতর্ক করেছেন, যেখানে মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা অন্যের রক্ত সিরিঞ্জের মাধ্যমে নিজেদের শরীরে পুশ করেন। ফিজিতে সিরিঞ্জের সংকট থাকায় এইভাবে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ছে।

ফিজি সরকার একটি সিরিঞ্জ ও সূচ বিতরণ কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা করেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আন্তোনিও লালাবালাভু জানান, ২০২৫ সালে ২ হাজার ১৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রাদুর্ভাব পর্যায়ের পদক্ষেপ আর যথেষ্ট নয়।

মন্ত্রী আরও জানান, দেশের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে সিরিঞ্জ ও সূচ মজুত রয়েছে এবং এই কর্মসূচি চালুর জন্য পার্লামেন্টে আইনি সংশোধনী আনা হবে। জনসাধারণকে পরীক্ষা করানোর জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের এইচআইভি ও এইডস বিষয়ক যৌথ কর্মসূচির (ইউএনএইডস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফিজিতে ৯ হাজার ১০০ জন এইচআইভিতে আক্রান্তের মধ্যে মাত্র ৩৯ শতাংশ মানুষ তাদের রোগ সম্পর্কে জানতেন।

ইউএনএইডস-এর নির্বাহী পরিচালক উইনি বিয়ানিমা বলেন, এটি একটি কঠোর সতর্কবার্তা যে এইডস এখনো শেষ হয়নি। ফিজির জাতীয় এইচআইভি মোকাবিলা টাস্কফোর্সের প্রধান জেসন মিচেল বিশ্বাস করেন, মহামারী নিয়ন্ত্রণে আনতে কমপক্ষে পাঁচ বছর লাগবে।

বিজ্ঞাপন