রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
শিক্ষা

শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার কারণ: বাস্তবতার কঠিন চিত্র

শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার বাড়ছে, বিশেষ করে ছেলেদের মধ্যে। সরকারের নীতির অবহেলা ও অর্থনৈতিক সংকট এ সমস্যার মূল কারণ।

শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার কারণ: বাস্তবতার কঠিন চিত্র

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় চলতি সময়ে একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার বাড়ছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ২০২৪ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১৪ বছরের ধারাবাহিক উন্নতি হঠাৎ করে ভেঙে পড়েছে।

বিশেষ করে, ছেলেদের মধ্যে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার হার প্রায় ১৯ শতাংশ, যা উদ্বেগজনক। দেশের উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে গরিব পরিবারের সন্তানদের জন্য স্কুলে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক শিশুর বাবা-মা বাধ্য হয়ে তাদেরকে শিশুশ্রমে নামিয়ে দিচ্ছেন।

অন্যদিকে, কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে অল্প বয়সে মেয়েদেরও বাল্যবিয়ের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হচ্ছে। সরকারের দেওয়া উপবৃত্তির টাকা দিয়ে আর সংসার বা পড়াশোনার খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

কলেজ পর্যায়েও শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমছে। দেশের কলেজগুলোতে ২৫ লাখ সিট থাকার পরেও এবারের আবেদন সংখ্যা মাত্র ৯ লাখ ৯৫ হাজার। এসএসসিতে পাস করা ১১ লাখ ৪৩ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে দেড় লাখ কলেজে ভর্তি হয়নি।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলা সিস্টেমের অবহেলা এবং ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিত না থাকার সংস্কৃতি এ সমস্যার জন্য দায়ী। এ বছর ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী এসএসসিতে ফেল করেছে, যার প্রধান কারণ ক্লাসে অনুপস্থিতি।

কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১৪৯টি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ৬৩ শতাংশ সিট ফাঁকা রয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব এবং মানহীন শিক্ষার কারণে শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষা কমিশনের স্থায়িত্ব এবং স্বাধীনতার অভাব শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার মূল কারণ। রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথে সাথে শিক্ষানীতির পরিবর্তন ঘটছে, যা পুরো প্রজন্মকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন