যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্ল্যাক মার্কেটে তেল বিক্রির অর্থ হিসেবে ব্যবহৃত ৬১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজেয়াপ্ত করতে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, বিচার বিভাগ দেওয়ানি বাজেয়াপ্তির আবেদন করেছে।
বিচার বিভাগের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও, ইরান অবৈধভাবে অপরিশোধিত তেল বিক্রি করে, যা সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নে ব্যবহার করা হচ্ছে।
মার্কিন বিচার বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান চীনসহ বিভিন্ন দেশে থাকা ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংশ্লিষ্ট একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অবৈধভাবে তেল বিক্রি করে অর্জিত অর্থ পাচার করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ১৫০ কোটি ডলারেরও বেশি অবৈধ তেল বিক্রির অর্থ পাচার করা হয়েছে।
মার্কিন ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) সহকারী পরিচালক জেমস বার্নাকল জুনিয়র বলেন, অর্থের গতিপথ অনুসরণ করে অবৈধ কর্মকাণ্ডের উৎস খুঁজে বের করার সক্ষমতা এফবিআইয়ের রয়েছে। তিনি জানান, নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলতে কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করতে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারকারী যেকোনো সরকারের অর্থপ্রবাহ বন্ধ করার জন্য তারা কাজ করছে।
বার্নাকল বলেন, কালোবাজারে অপরিশোধিত তেল বিক্রি করে সংগৃহীত অর্থের প্রবাহ বন্ধ করা গেলে ইরানের সামরিক বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো দুর্বল হয়ে পড়বে। বিপজ্জনক বিদেশি পক্ষগুলোর অর্থের উৎস বন্ধ করার ক্ষেত্রে এফবিআই তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
এটি ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটরদের নেওয়া ধারাবাহিক আইনি পদক্ষেপের সর্বশেষ ঘটনা। দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেহরানের বিরুদ্ধে আর্থিক ও আইনি চাপ আরও বাড়ানো হচ্ছে।