বিশ্বের বৃহত্তম প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো, যেমন ওরাকল ও মাইক্রোসফট, এআই প্রযুক্তির কারণে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের দিকে যাচ্ছে। চলতি বছর ১ লাখের বেশি কর্মী চাকরি হারিয়েছেন, যা প্রযুক্তি খাতে ছাঁটাইয়ের চলমান প্রবণতার প্রতিফলন।
কোম্পানিগুলো এআই, ডেটা সেন্টার এবং অটোমেশনে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবসা পুনর্গঠন ও খরচ কমানোর চেষ্টা করছে। তবে, সব ছাঁটাইয়ের জন্য সরাসরি এআইকে দায়ী করা যায় না। দুর্বল ব্যবসায়িক ফলাফল এবং বাজারের পরিবর্তনও এর একটি কারণ।
এআই সাধারণত পুরো চাকরি প্রতিস্থাপন না করে, বরং চাকরির নির্দিষ্ট কাজগুলো অটোমেট করে। উদাহরণস্বরূপ, একজন কর্মীর ১০টি কাজের মধ্যে ৩টি কাজ এআই করতে পারে। কিন্তু জটিল সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং মানুষের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগের ক্ষেত্রে মানবসম্পদের প্রয়োজনীয়তা অপরিবর্তিত রয়েছে।
এআইয়ের কারণে চাকরির ধরন পরিবর্তন হতে পারে, যা কিছু কর্মীর জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। এই প্রেক্ষাপটে 'দ্য এআই লে-অফ ট্র্যাপ' ধারণাটি আলোচনায় এসেছে। অর্থনীতিতে বিপুল সংখ্যক কর্মী চাকরি হারালে তাদের খরচ কমে যাবে, যা পণ্য ও সেবার চাহিদা হ্রাস করবে।
এআইয়ের অগ্রগতি থামানো সম্ভব নয়, তবে এর সুফল সকলের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য রিস্কিলিং এবং আপস্কিলিং প্রয়োজন, যাতে কর্মীরা এআইয়ের সহকারী হিসেবে কাজ করতে পারেন।
অতএব, এআইয়ের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে, কিন্তু তা যেন মানুষের কাজকে কমিয়ে না দেয়। বরং, এআইয়ের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মীদের আয়ও নিশ্চিত করতে হবে।