যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত চাপ মোকাবিলায় ইরানের অভ্যন্তরীণ সংস্কার অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন তেহরানের মেয়র আলিরেজা জাকানি। তিনি বলেন, শুধুমাত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা যথেষ্ট নয়, দেশের গুরুতর সমস্যাগুলোও সমাধান করতে হবে।
জাকানি সতর্ক করে বলেন, "যদি অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো সমাধান না করা হয়, তাহলে ইরান ভেতর থেকেই ভেঙে পড়তে পারে।" তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে তিনটি সম্ভাব্য পথ উল্লেখ করেন: প্রথমত, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো; দ্বিতীয়ত, অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাগুলো উপেক্ষা করে প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া; এবং তৃতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের পাশাপাশি দেশের ভেতরেও সংস্কার চালানো।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিমকে দেওয়া বক্তব্যে জাকানি বলেন, "প্রতিরোধের অর্থ এই নয় যে আমরা দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো উপেক্ষা করবো।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, শত্রুর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি দেশের ভেতরেও প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।
বর্তমানে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে, যার ফলে যুদ্ধের ব্যয়, অর্থনৈতিক সংকট এবং অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা সামলাতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করেছে, যার প্রভাব দেশটির তেল রফতানি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে পড়েছে।
জাকানির এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে, ইরানের অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের অবস্থান থেকে সরে আসার কথা বলেননি, বরং বাইরের চাপ মোকাবিলার পাশাপাশি দেশের ভেতরের দুর্বলতাগুলোও দূর করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন।