ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা আকস্মিক বন্যা হলো হঠাৎ ও অপ্রতিরোধ্য পানির তীব্র স্রোত যা সাধারণত পাহাড়ি উপত্যকা, সংকীর্ণ খাদ কিংবা নিচু এলাকায় দ্রুত আছড়ে পড়ে। সম্প্রতি নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে এই ধরনের বন্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, যেখানে আধা ঘণ্টারও কম সময়ে নদীর পানির উচ্চতা ২০ মিটার বেড়ে যায়। এর ফলে ৫০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ফ্ল্যাশ ফ্লাডের প্রধান কারণ অতিবৃষ্টি। এছাড়াও, পাহাড়ের খাড়া ঢাল, কৃত্রিম বাঁধ ভেঙে যাওয়া এবং ভূপ্রকৃতির বৈচিত্র্যও এর জন্য দায়ী। বিশেষ করে, শক্ত মাটি বা পাথর পানি শোষণ করতে না পারায় ভারী বৃষ্টির ফলে পানি জমে গিয়ে একটি 'দেয়াল' তৈরি করে।
লাংটাং লিরুং শৃঙ্গের কাছে একটি হিমবাহ ধসে পড়ার কারণে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয়েছে, যা ইউএসজিএস দ্বারা ৫.২ মাত্রার ভূকম্পন রেকর্ড করেছে। ওই ধসের ফলে বরফ ও পাথর নদীর পানি আটকে দেয় এবং পরবর্তীতে সেই বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) মতে, আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস সম্ভব হলেও এতে সময়ের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সাধারণ বন্যার মতো পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়ার সময় থাকে না। ফ্ল্যাশ ফ্লাড সাধারণত দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ঘটে, যেখানে পর্যাপ্ত আবহাওয়া বা হাইড্রোলজিক্যাল স্টেশন নেই।
বর্তমানে স্যাটেলাইট, অটোমেটিক সেন্সর এবং আধুনিক মনিটরিং ডিভাইসের মাধ্যমে হ্রদের পানির স্তর পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে, আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রমকারী নদী বা হিমবাহের ক্ষেত্রে তথ্যের আদান-প্রদান আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রকৃতির এই আকস্মিক বিপদগুলো নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এজন্য আন্তর্জাতিক সমন্বয় ও স্যাটেলাইট ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বসতি স্থাপন বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।