বরগুনার পাথরঘাটার মাছ ধরার ট্রলার ‘এফবি বরকত’ ডুবে যাওয়ার চার দিন পর বঙ্গোপসাগরে চারটি মরদেহ ভাসছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর থেকে সরকারি কোনো বিশেষায়িত উদ্ধারকারী নৌযান না থাকায় স্থানীয় ট্রলার মালিক সমিতি উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।
গত সোমবার দুপুরে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে ট্রলারটি উপকূল থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে ডুবে যায়। এতে ১৩ জন জেলে ছিলেন, যাদের মধ্যে আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আরও পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন।
উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণকারী জেলেরা জানান, সাগরের উত্তাল পরিস্থিতির কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তারা দাবি করেছেন, নিখোঁজ জেলেদের মরদেহ উদ্ধারে সরকারের সহায়তা প্রয়োজন।
নিখোঁজ নুর আলম মোল্লার বাবা জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন, “আমার ছেলে ট্রলারের কেবিনে আটকে পড়ে মারা গেছে। সরকারের কাছে দাবি জানাই, নৌবাহিনী পাঠিয়ে আমার ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হোক।”
স্থানীয় জেলেরা অভিযোগ করেছেন, তারা জীবন বাজি রেখে মাছ শিকার করেন, অথচ দুর্ঘটনার সময় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। বরগুনার জেলেরা সরকারের কাছ থেকে আধুনিক উদ্ধারকারী নৌযানের দাবি জানিয়েছেন, যা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
বাংলাদেশ মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, “জেলেদের জীবন রক্ষায় দ্রুত একটি আধুনিক উদ্ধারকারী নৌযান প্রয়োজন।” জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিনও এ বিষয়ে সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।