মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের ১৫ বছর পরও লিবিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারেনি। দেশটির প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলো একত্রিত হতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দাবেইবাহ এবং খলিফা হাফতারের মধ্যে বিরোধ মেটাতে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া, মিসর, কাতার ও তুরস্ক লিবিয়ায় গৃহযুদ্ধের অবসানে চাপ দিচ্ছে।
গাদ্দাফির ৪২ বছরের শাসন ২০১১ সালের অক্টোবরে শেষ হয়, যখন তিনি আরব বসন্তের সময় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে নিহত হন। গাদ্দাফির মৃত্যুর পর লিবিয়া দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রশাসনের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
জাতীয় ঐক্য সরকার (জিএনইউ) ত্রিপোলিতে অবস্থিত এবং জাতিসংঘ দ্বারা স্বীকৃত। অপরদিকে, খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন পূর্বাঞ্চলীয় প্রশাসন তোবরুকে কেন্দ্র করে গঠিত। এই দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে লিবিয়ার জনগণের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
জাতিসংঘ ২০২০ সালে ‘ইউএন সাপোর্ট মিশন ইন লিবিয়া’র মাধ্যমে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা শুরু করে। এর আওতায় দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রশাসনকে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
লিবিয়াকে পুনরায় একত্রিত করার প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর বিনিয়োগ ও ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান লিবিয়া সফর করেন এবং দাবেইবাহ ও হাফতারের সঙ্গে আলোচনা করেন।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের রোডম্যাপ অনুযায়ী লিবিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কাতার।