পায়রা বন্দরে মেইনটেন্যান্স ড্রেজিংয়ের অভাবে তীব্র নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। বন্দরের গভীরতা সাড়ে ১০ মিটারের পরিবর্তে ৬ মিটারে নেমে যাওয়ায় বিদেশি জাহাজের আগমন আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে, যা রাজস্ব আয়কে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
২০২১ সালে পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলে ক্যাপিটাল ড্রেজিং শুরু হয় এবং ২০২৩ সালে গভীরতা ১০.৬ মিটারে উন্নীত হয়। এর ফলে বিদেশি জাহাজের আগমন বৃদ্ধি পায়। ২০২২-২৩ ও ২৩-২৪ অর্থবছরে ২৩৪টি বিদেশিসহ মোট ২ হাজার ৬২টি জাহাজ থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয় ৮৩১ কোটি টাকারও বেশি।
পায়রা বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) আজিজুর রহমান জানান, নিয়মিত মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং না হওয়ায় চ্যানেলে তীব্র নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। ২৪-২৫ অর্থবছরে বিদেশি জাহাজের সংখ্যা ৮৫টি থেকে ২৫-২৬ অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত মাত্র ২৯টিতে নেমে এসেছে।
স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত ড্রেজিং চালু না হলে এই সংকট আরও বাড়বে, যা জাহাজ চলাচল ও পণ্য খালাস কার্যক্রমকে ব্যাহত করবে।
পায়রা বন্দরের সদস্য (হারবার এন্ড মেরিন) কমডোর জামাল চৌধুরী জানান, দুই বছরের মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং এবং দুটি হপার ড্রেজার কেনার জন্য সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে অন্তত দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকা আয় সম্ভব।
পূর্ণ সক্ষমতায় সচল হলে পায়রা বন্দর দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দেওয়ার পাশাপাশি হাজারো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।