নতুন দিল্লি, ভারত – ভারতের শীর্ষ আদালত প্যাসিভ ইউথানেশিয়া অনুমোদন করেছে, তবে অনেক পরিবার এর প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞাত। প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিটে থাকা রোগীদের পরিবারের সদস্যরা জানেন না পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে।
নতুন দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (এআইআইএমএস)-এ পিয়ুশ সিং নামের ২৯ বছর বয়সী এক রোগী স্টমাক ক্যান্সারে আক্রান্ত। তার মায়ের প্রশ্ন, “আমরা কোথায় যাব?” চিকিৎসা ব্যর্থ হলে পরিবারের সদস্যরা কী করবেন তা জানেন না।
অন্যদিকে, আয়রান নামের এক ব্যক্তি তার ৪০ বছর বয়সী ভাই অমিতের সঙ্গে এসেছে, যিনি মুখের ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছেন। চিকিৎসকরা তাদের জানিয়েছেন যে আর কিছু করার নেই। আয়রান বলেন, “চিকিৎসকরা বলেছেন কিছু করা যাবে না। তাই পরিষ্কার।”
ভারতে ২০২৪ সালে ক্যান্সারের নতুন রোগীর সংখ্যা ১.৫৬ মিলিয়ন ছিল। কিন্তু ক্যান্সার রোগীরা একা নন, ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরি এবং ডিজেনারেটিভ নিউরোলজিক্যাল অবস্থার রোগীর পরিবারগুলোও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে।
একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ভারতে প্রায় ৭ থেকে ১০ মিলিয়ন মানুষ প্যালিয়েটিভ কেয়ারের প্রয়োজন, কিন্তু মাত্র ৪ শতাংশ এটি পাচ্ছে। অধিকাংশ পরিবার প্যালিয়েটিভ কেয়ার বা জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসার পছন্দের বিষয়ে সচেতন নয়।
ভারতে মৃত্যুর বিষয়টি পরিবারের মধ্যে আলোচনা করা হয় না, যা এই পরিস্থিতির একটি কারণ। ২০১৮ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জীবনযাপনের অধিকারকে সম্মান করে প্যাসিভ ইউথানেশিয়া অনুমোদন করে। এই রায়ের মাধ্যমে রোগীরা তাদের চিকিৎসার পছন্দগুলি লেখার সুযোগ পান।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর, ২০২৪ সালে গাজিয়াবাদের একটি পরিবার ৩২ বছর বয়সী এক রোগীর জীবন সমর্থন বন্ধ করার জন্য আদালতে আবেদন করে। এই মামলাটি ভারতের প্রথম যেখানে প্যাসিভ ইউথানেশিয়া অনুমোদন করা হয়।
এই প্রক্রিয়ায় পরিবারের সদস্যদের জন্য চিকিৎসা ও আইন উভয় ক্ষেত্রেই নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে, যদিও এখনও সচেতনতার অভাব রয়েছে।