গাজার হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পথে। উপত্যকার ৩৪টি অক্সিজেন স্টেশনের মধ্যে ২২টি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে, যা চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শনিবার (১৫ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানায়।
বর্তমানে গাজায় মাত্র ১২টি অক্সিজেন স্টেশন সচল রয়েছে, তবে সেগুলোও ‘অত্যন্ত জটিল কারিগরি ও যান্ত্রিক পরিস্থিতির’ মধ্যে কাজ করছে। প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশের অভাবে প্রকৌশলীরা জরুরি মেরামত করতে পারছেন না।
এদিকে, বহনযোগ্য অক্সিজেন সিলিন্ডারে গ্যাস ভরার সরঞ্জামের সংকট দেখা দিয়েছে। গাজায় থাকা ৩০টি অক্সিজেন ফিলিং ডিভাইসের মধ্যে মাত্র ৪টি সচল রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আশঙ্কা করছে, যেকোনো সময় এগুলোও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
মন্ত্রণালয় জানায়, অক্সিজেন জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জাম, এবং এর অভাব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশাপাশি বাড়িতে চিকিৎসাধীন রোগীদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
অক্সিজেন স্টেশনগুলোর মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ দ্রুত গাজায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নতুন অক্সিজেন ইউনিটের সরবরাহও জরুরি বলে দাবি করা হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ইতোমধ্যে যুদ্ধের কারণে ভয়াবহ চাপের মধ্যে রয়েছে। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১০ অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রবেশে নানা বিধিনিষেধ অব্যাহত রয়েছে।
চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা এমএসএফ জানায়, ইঞ্জিনের তেল ও খুচরা যন্ত্রাংশের প্রবেশে ইসরায়েলি বিধিনিষেধ হাসপাতালের জেনারেটর ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
গত ১ আগস্ট দেইর আল-বালাহ'র আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের কাছে ওষুধ সংরক্ষণের দুটি গুদাম ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংস হয়, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুত ছিল।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, গাজায় পণ্য প্রবেশের জন্য বর্তমানে কেরেম শালোম একমাত্র সচল সীমান্তপথ। তবে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রবেশে নানা বিধিনিষেধ রয়েছে।