ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধের চাপ এখন মার্কিন মিত্রদের মধ্যেও অনুভূত হচ্ছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো প্রশ্ন তুলছে—এই যুদ্ধ আর কতদিন চলবে?
তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো কি সত্যিই নিরাপত্তা দিচ্ছে, নাকি যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই এই দেশগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। ইরান এবং তাদের মিত্রদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রভাব পড়ছে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপসাগরীয় কিছু দেশ এখন ভাবতে শুরু করেছে, নিজেদের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক স্থাপনা রাখার সুবিধা কতটা। এগুলো একদিকে তাদের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় সম্ভাব্য লক্ষ্য হয়ে উঠছে।
ট্রাম্পের সামনে তৈরি হচ্ছে বড় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমস্যা। তিনি একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে আলোচনা চালানোর সম্ভাবনাও দেখাচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ করার মতো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অসন্তুষ্ট হলেও সম্পূর্ণভাবে আমেরিকা থেকে সরে যাওয়ার অবস্থায় নেই। মার্কিন অস্ত্র, গোলাবারুদ, সামরিক সরঞ্জাম এবং গোয়েন্দা সহযোগিতা তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
যুদ্ধের প্রভাব এখন শুধু ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর প্রভাব পড়ছে আমেরিকার মিত্রদের ওপরও। তারা আমেরিকাকে ছাড়তে পারছে না, আবার যুদ্ধের ঝুঁকিও নিতে চাইছে না। এই অবস্থায় ট্রাম্পের জন্য কঠিন বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে।