জাতিসংঘ আফগানিস্তানে তালেবান শাসনের পাঁচ বছরে মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনের অভাবের কারণে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা করছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের ৫৬টি সদস্য রাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। আফগানিস্তানের জীবনযাত্রার মান কমে গেছে এবং কর্মসংস্থানের সংকট বেড়েছে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অভাবে।
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও অবকাঠামোর অগ্রগতি সত্ত্বেও তালেবান সরকারের মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি তাদের অর্জনকে ম্লান করে দিচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, তালেবান সরকার গত বছরগুলোতে নারীদের স্বার্থবিরোধী শতাধিক অধ্যাদেশ জারি করেছে, যার ফলে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও চলাফেরায় নানা বিধিনিষেধ আরোপিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি বিধিনিষেধের কারণে আফগান নারীদের বেশিরভাগই মাসে মাত্র এক বা দুবারের বেশি ঘর থেকে বের হতে পারেন না। বর্তমানে ২৫ লাখের বেশি নারী শিক্ষার্থী মাধ্যমিক ও উচ্চতর শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
জাতিসংঘে ডেনমার্কের প্রতিনিধি ক্রিস্টিনা মার্কাস লাসেন বলেন, "আফগানিস্তান বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে মেয়েরা মাধ্যমিক ও উচ্চতর শিক্ষা থেকে বঞ্চিত।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে সকল আফগান নাগরিক মৌলিক অধিকার ও সমান মর্যাদা ভোগ করতে পারবে।
অন্যদিকে, প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আফগানিস্তান কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। অর্থনৈতিক ধস ও মানবিক বিপর্যয়ে সাধারণ নাগরিকদের জীবন অসহনীয় হয়ে উঠছে।
ক্রিস্টিনা মার্কাস লাসেন আরও বলেন, "আফগান সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।" তিনি তালেবান সরকারকে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানান।
তালেবানের দমনপীড়নের নীতি ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা আফগানিস্তানকে এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।