ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ শুক্রবার নির্দেশ দিয়েছেন যে পশ্চিম তীরে নাগরিক আইন প্রয়োগের দায়িত্ব ইসরায়েলি পুলিশকে দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে পশ্চিম তীরে অবৈধ সংযুক্তির পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় সংবাদপত্র হারেৎজের খবর অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তটি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর কার্যক্রমের সমালোচনার পর নেওয়া হয়েছে। কাটজ বলেন, "সামরিক বাহিনীর কাজ হল ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করা, এবং পাহাড়ের যুবকদের তাড়া করা নয়।"
প্যালেস্টাইন ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভের সাধারণ সম্পাদক মুস্তফা বারঘৌতি এই পরিবর্তনকে অবৈধ সংযুক্তির প্রক্রিয়ার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, "বসতি স্থাপনকারীরা সংযুক্তির প্রক্রিয়ায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।"
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামরিক দায়িত্বের পরিবর্তন আইনগতভাবে পশ্চিম তীরের সীমান্ত মুছে ফেলছে। গবেষক মোহানাদ মুস্তফা বলেন, "সরকার পশ্চিম তীরকে একটি দখলকৃত অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করছে না।"
প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের নির্বাহী কমিটির সচিব হুসেইন আল-শেখ এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হামাসও এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, বলেছে এটি বাস্তবিকভাবে সংযুক্তির পথে একটি বিপজ্জনক পদক্ষেপ।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে এই পরিবর্তন সামরিক বাহিনীকে তাদের দায়িত্ব থেকে মুক্তি দেয় এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাকে রাষ্ট্রের একটি সশস্ত্র সম্প্রসারণে পরিণত করে। নিহাদ আবু গশ বলেন, "বসতি স্থাপনকারীরা এখন ফ্যাসিস্ট মিলিশিয়া গঠন হিসেবে কাজ করছে।"
এই নতুন আইনগত কাঠামো আন্তর্জাতিক এবং স্থানীয় উভয় ক্ষেত্রেই তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। গবেষক শাদি আল-শুরাফা বলেছেন, "আমরা পশ্চিম তীরে একটি স্পষ্ট বর্ণবাদী অ্যাপার্টহেইড সিস্টেমের মুখোমুখি।"