বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর মহাসচিব এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতি পদে দলের মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, দুপুরে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরাবর পদত্যাগ পত্র জমা দেন মির্জা ফখরুল। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
দুপুর দুইটার দিকে নির্বাচন কমিশনে রাষ্ট্রপতি পদে লড়তে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা দিতে রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল গিয়েছে।
মির্জা ফখরুলের প্রস্তাবক স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং সমর্থক হিসেবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি এক সময়ের রাজনৈতিক সহকর্মী অলি আহমেদ বীর বিক্রমের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
অলি আহমেদ বিএনপি ছেড়ে এলডিপি গঠন করেছেন এবং বর্তমানে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সঙ্গী। এই জোটই তাকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করেছে।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা নির্বাচন কমিশনে তার মনোনয়নপত্র জমা দেন। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পরিবর্তে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে নির্বাচন করার সুযোগ তৈরি করতে এই প্রার্থী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, আজ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর আগামী ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ভোট হবে ২০ আগস্ট।
এবার একাধিক প্রার্থী থাকায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ভোটাভুটির প্রয়োজন হবে। সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে এই ভোটাভুটিতে অংশ নেবেন। তবে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার কারণে তাদের প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা।
এভাবে, বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নিশ্চিত হয়ে গেছে।