থাইল্যান্ডে স্কুলে বন্দুক হামলায় নিহত ১২ বছরের নাফাত চাইমারের শেষ বিদায়ে ভারী হয়ে উঠেছিল শোকের পরিবেশ। সোমবার (১০ আগস্ট) ব্যাংককের উত্তরে নন্থাবুরি প্রদেশের ওয়াট লাট প্লা ডুক মন্দিরে নাফাতের শেষকৃত্যের আগে হামলাকারী কিশোরের বাবা হাঁটু গেড়ে বসে তার বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চান।
হামলাকারী প্যাচাট ইমরুয়াংয়ের বাবা নিথি ইমরুয়াং কাঁদতে কাঁদতে মাথা নত করে নাফাতের বাবা পংথন চাইমার ও মা’র কাছে ক্ষমা চান। এই হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সাক্ষী হন শত শত মানুষ, যার মধ্যে উপপ্রধানমন্ত্রী, শিক্ষক, সহপাঠী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
নাফাত ছিল হামলায় নিহত সবচেয়ে কম বয়সী শিক্ষার্থী। কিশোরটি প্রথমে নিজের দাদা-দাদিকে গুলি করে হত্যা করে এবং পরে স্কুলে গিয়ে আরও ছয়জনকে গুলি করে হত্যা করে। হামলার সময় নাফাত সাধারণত যে ভবনে থাকার কথা নয়, সেদিন সেখানে গিয়েছিল।
নিথি জানান, তার ছেলে স্বভাবগতভাবে শান্ত ও অন্তর্মুখী ছিল, তবে হামলার আগে সে আরও বেশি চুপচাপ হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, “ছেলের আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করেছিলাম। হামলার পর এখন আর তাকে এসব প্রশ্ন করার সুযোগ নেই।”
নাফাতের মৃত্যুতে পুরো থাইল্যান্ডে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন ও প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
মন্দিরে নাফাতের কফিনের পাশে রাজা ও রানি পক্ষ থেকে পাঠানো পুষ্পস্তবক রাখা ছিল। রোববার রাজপ্রাসাদ থেকে জানানো হয়, নিহত ও আহতদের পরিবারকে রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতার আওতায় নেওয়া হয়েছে।
নাফাতের বাবা বলেন, তার মেয়ের স্বপ্নগুলো মনে পড়ে। নাফাত মাত্র তিন মাস আগে ওই স্কুলে ভর্তি হয়েছিল এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
হামলার পর নাফাতের বাবা-মা বারবার মেয়ের ফোনে কল দিতে থাকেন। পরে পুলিশ তাদের জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় নাফাতকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর, গত শনিবার নাফাত মারা যায়।
নাফাতের শিক্ষক তাকে একজন প্রাণবন্ত ও বিনোদনপ্রিয় শিক্ষার্থী হিসেবে স্মরণ করেছেন। তবে তার বাবা স্কুলকে দায়ী করতে চান না, তিনি বলেন, “এমন ঘটনা যেকোনো জায়গায় ঘটতে পারে।”