বাংলাদেশের খ্যাতনামা চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে শিল্পকলা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন, সম্প্রতি নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। সুলতান, যিনি নড়াইলের পুরুলিয়া গ্রামে বাস করতেন, তার শেষ প্রদর্শনী হয়েছিল দুই যুগ আগে।
সত্তরের দশকের শেষের দিকে ঢাকায় শিল্পকলা একাডেমিতে তার চিত্রকর্মের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি নতুনভাবে পরিচিত হন। বহুমাত্রিক লেখক আহমদ ছফা ও অন্যান্য শিল্পী তার কাজের প্রশংসা করেন। সুলতানের প্রথম প্রদর্শনী ১৯৪৭ সালে ভারতের শিমলায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তার কাজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসিত হয়।
তিনি সাধারণ উপকরণ যেমন গাবের রঙ, চটের ক্যানভাস ও কয়লা ব্যবহার করে ছবি আঁকতেন। সুলতান বলেন, "বিদেশি ক্যানভাসের প্রচুর দাম। তাই পাটের চটের ওপর আঁকার চেষ্টা করলাম।" তিনি শিশুদের ছবি আঁকা শিখানোর জন্য 'শিশুস্বর্গ' নামের একটি পাঠশালা প্রতিষ্ঠা করেন।
শিল্পী নূরুল আলম আতিক এক অনুষ্ঠানে বলেন, "এস এম সুলতান একজনই। তার তুলনা চলে না ভারতবর্ষের কোনো শিল্পীর সঙ্গে।" ১৯৮২ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট' পুরস্কার পান সুলতান।
বিশ্ববিখ্যাত লেখক গুন্টার গ্রাস একবার মন্তব্য করেছিলেন, "সুলতানকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ হয় না।" এই মন্তব্য সুলতানের শিল্পকর্মের গুরুত্ব এবং তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়। আহমদ ছফা তার লেখায় উল্লেখ করেন, "বাংলার বদলে সুলতান যদি আরব দেশে জন্ম নিতেন, তাহলে মরুচারী বেদুইনদের ছবি আঁকতেন।"
সুলতান ছিলেন একজন শেকড় সন্ধানী শিল্পী, যিনি মানুষের ভেতরের শক্তির উত্থানকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তার কাজের মাধ্যমে তিনি গ্রামীণ জীবনের বাস্তবতা ও সংগ্রামকে তুলে ধরেছেন। সুলতানের অবদান আজও বাংলাদেশের শিল্পকলা ও সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলছে।